Thursday, November 16, 2017

মানুষের কর্তব্য আইন রচনা করা নয়, আল্লাহর রচিত আইন পালন ও জারী করা মাত্র।




হাদীস ঃ

" আবু আমের কিংবা আবু মালেক আশ'আরি (রা) থেকে বর্নিত, নবী করিম (স) এরশাদ করেছেন ঃ আমার উম্মতের মধ্যে এমন ব্যাক্তি ও হবে যারা জ্বিনা -ব্যাভিচার, রেশমি পোশাক ব্যাবহার, মদ্যপান ও আনন্দ স্ফুর্তির যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করা হালাল মনে করে নেবে।"

ব্যাখ্যা ঃ

ইসলামী জীবন ব্যাবস্থাকে নিজের জীবনাদর্শ হিসাবে গ্রহন করে নাই, এই ধরনের মুসলিমদের ইসলামদ্রোহিতা সম্পর্কে সাবধান ও সতর্ক করে তোলার জন্য আলচ্য হাদীসে ভবিষৎবাণী করা হয়েছে। রাসুলে করিম (স) বলেছেন,  উম্মতের মধ্যে এমন নামধারী মুসলিম ও হবে, যাদের আল্লাহর শরীয়তের প্রতি ঈমান থাকবে না। শুধু তাই না, আল্লাহর শরীয়তের বিপরীত কাজই তারা করবে। আল্লাহর শরীয়তে যা হারাম ও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে, তাকেই তারা হালাল, সংত ও বৈধ মনে করবে এবং তা বন্ধ করার পরিবর্তে সামাজিক ক্ষেত্রে তা চালু করবে। এক কথায় আইন প্রনয়নের নিরংকুশ ক্ষমতা আল্লাহর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে নিজেদের হাতে গ্রহন করবে। নিজেদের কে বিশেষ ক্ষমতাবান ভেবে নিবে।

বস্তুত ইসলামে কোন কিছুকে হালাল বা হারাম ঘোষনা করার আইন রচনা করার অধিকারর চুড়ান্ত ভাবে আল্লাহর নির্দিষ্ট। মানুষের কর্তব্য আইন রচনা করা নয়, আল্লাহর রচিত আইন পালন ও জারী করা মাত্র। এমন কি রাসুলে করিম (স) এর ও কোন ব্যাক্তিগত ক্ষমতা বা অধিকার নাই কোন জিনিসকে হালাল এবং কোন জিনিস কে হারাম ঘোষনা করার। তিনি একবার রাগান্বিত হয়ে নিজের ওপর মধু পান হারাম করে নিয়েছিলেন। আল্লাহ সংগে সংগে এর সংশোধন করে বলেছেন " হে নবী! আল্লাহ তোমার জন্য যা হালাল করেছেন, তুমি তা নিজের জন্য হারাম করছো কেন।" ফলে তিনি নিজের হারাম করা মধুপান আল্লাহ হালাল করার কারনে পুনঃব্যবহার করতে শুরু করেন।

আলোচ্য হাদীসে রাসুলে করিম (স) সাবধান করে দিয়ে বলেন যে, আল্লাহর হারাম করা জিনিস মুসলিম নামধারী লোকেরা নিজেদের জন্য হালাল করে নিবে, এটি মুসলিমের কাজ নয়। এটি সুস্পষ্ট কুফরি কাজ ও কাফেরদের উপযোগী কাজ। মুসলিম হয়েও যারা এমন ধৃষ্টতা দেখায়, তাদের চাইতে অমানুষ আর কেউ হতে পারে না। তারা লালসার দাস, কুপ্রবৃত্তির প্রবঞ্চনা ও উত্তেজনায় পড়ে আল্লাহর হারাম করা জিনিসকে হালাল করতে উদ্যত হয়। এটি এক অমার্জনীয় অপরাধ ভিন্ন আর কি হতে পারে।

কোন মুসলিম সমাজে যাতে আল্লাহর হারাম করা জিনিস সাধারণভাবে চালু হতে না পারে, এটি বৈধ হওয়ার মত মর্যাদা লাভ করতে না পারে, পরন্তু এটি কেউ যেন প্রকাশ্য ভাবে অবলম্বন ও করতে সাহসী না হয়, সেদিকে অতন্দ্র প্রহরীর মত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা প্রতিটি মুসলিমের ব্যাক্তিগত কাজ তো বটেই, এক বিরাট সামাজিক ও সামগ্রিক দায়িত্ব বটে। আলচ্য হাদীসে রাসুলে করিম (স) তার উম্মতকে এই দিকেই উদ্ভুদ্ধ করেছেন।

এখানে দৃষ্টান্ত হিসাবে রাসুল (স) কয়েকটি হারাম জিনিসের উল্লেখ করেছেন। তা হলো জ্বিনা, ব্যাভিচার, পুরুষের জন্য রেশম ব্যবহার, মদ্যপান ও গান-বাজনার যন্ত্র ইত্যাদি। এখানে অবশ্য সমস্ত হারাম জিনিসের উল্লেখ করা হয় নাই। তার অর্থ এই নয় যে, এছাড়া অন্যান্য হারাম জিনিস কে হালাল করে নেওয়া বুজি অপরাধ নয়।

বরং এখানে উল্লিখিত জিনিস গুলি তো দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর হালাল ও হারাম করা কোন জিনিসকেই হারাম বা হালাল করার কোন অধিকার মানুষের নাই।

আলচ্য হাদীসে উল্লিখিত হারাম জিনিসগুলির প্রতিটি সম্পর্কে চিন্তা করলে বুঝতে পারা যায় যে, এগুলোর প্রতিটি মানুষের জন্য মারাত্মক সমাজ-শৃংখলা বিধ্বংসী ও অশান্তি সৃষ্টিকারি। এগুলোর প্রতিটির হারাম হওয়া ব্যাঞ্চনিয় বলেই হারাম করা হয়েছে। অতএব কেউ এগুলিকে হালাল করলে তা যে কেবল কুফরি হবে তাই নয়, তার ফলে গোটা সমাজ এবং মানব জীবনের পবিত্রতা ও শৃংখলা নষ্ট ও চুর্ন-বিচুর্ন হয়ে যাবে।



No comments:

Post a Comment

Thanks Bro