Thursday, January 25, 2018

ফুঁসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়! - শিক্ষার্থী লাঞ্ছনা ইস্যুতে ছাত্রলীগের যুক্তিগুলো একটু খণ্ডন করা যাক




ফুঁসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!

আসুন শিক্ষার্থী লাঞ্ছনা ইস্যুতে ছাত্রলীগের যুক্তিগুলো একটু খণ্ডন করা যাক এবং ভিসির এই অল্প ক’দিনের অপকর্মগুলোতেও একটু চোখ বুলানো যাক। তথাকথিত ছাত্রলীগের যুক্তিগুলো এক করলে 
যে সারমর্ম পাওয়া যায় তা হলো–

ফুঁসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!
১। ভিসি পিতাসম, আর তাই ভিসিকে উদ্ধার করতে তারা সেখানে গিয়েছিলো।
এটার আলোচনায় আসলে প্রথমেই বলতে হয় ভিসি অবরুদ্ধ থাকলে আপনারা কে তাকে উদ্ধার করার? দেশে আইন-শৃংখলা বাহিনী আছে, তারা সেখানে দায়িত্ব পালন করবে, আপনারা না। আপনাদের দায়িত্ব না অবরুদ্ধ ভিসিকে উদ্ধার করা। এভাবে যদি দায়িত্ব নিতে চান তবে বিজিবি আর্মির দায়িত্বগুলোও কি ভবিষ্যতে নিজেরাই নেবেন?

২। দ্বিতীয়ত, ছাত্রলীগও সেখানে মার খেয়েছে।
উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন থাকবে, কেন? তারা প্রথম থেকেই কেন সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে? ইদানিংকালে যতো আন্দোলন ঢাবিতে বা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির জন্য হয়েছে প্রতিটি আন্দোলনে কেন তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আজ কেনো তারা সেখানে মার খাবে? প্রশাসনের হাতে সব শিক্ষার্থী যেখানে মার খাবার কথা সেখানে প্রশাসনের ভূমিকা কেন নিলো ছাত্রলীগ? প্রশাসন আজকে যদি এখানে আক্রমণ করতো তবে প্রশাসনের কিছু লোক আহত হতোই, এটাই নিয়ম এবং সেখানেও তাই হয়েছে। ছাত্রলীগের সেখানে যাবারই তো কথা না, গেলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে থাকার কথা। যখনি এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্রলীগ সেখানে অবস্থান নিয়েছে তখনি ছাত্রলীগের উপস্থিতি সেখানে বৈধতা হারিয়েছে। সুতরাং ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সেখানে আক্রমণ ঘটিয়ে নিজেরাও ব্যাণ্ডেজ মেরে দেবেন শরীরে এই নাটক সবাই বুঝে। গোটা মিডিয়ার আজকের রিপোর্ট গুলো দেখে নেবেন আমার ছাত্রলীগ ভাইয়েরা। আপনারা তো প্রথম আলো বলেন শত্রু, আজকে সব আলোই দেখবেন আপনাদের কতো সুনাম করেছে!

৩। তৃতীয় যুক্তি, এই আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের না, বাম-শিবির-ছাত্রদলের।
বহু পুরোনো যুক্তি, নতুন বোতলে পুরোনো মদ। যেকোন আন্দোলন, ন্যায্য দাবির পক্ষে যারাই দাঁড়াবে তাদেরকেই জামাতশিবির-ছাত্রদল আখ্যা দেয়া পুরানো ট্রেন্ড। একটা ঘটনা মনে করাই, ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে এই ছাত্রলীগ কি করেছিলো মনে আছে কি? এমন কোন হীন কাজ নেই তারা করে নাই, শেষ পর্যন্ত আমরা যারা এই ভ্যাটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি তাদেরকেও বিএনপি-জামাত-বাম এসব ট্যাগ দেয়া হয়েছে। পুরো অনলাইনে এই আন্দোলনকে শিবির এবং ছাত্রদলের আন্দোলন হিসেবে তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে। কিন্তু অবাক হলেও সত্য, অবশেষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানে এই ছাত্রলীগ আর তথাকথিত লীগের ভাষায় এই শিবির-ছাত্রদল এর দাবি মেনে নিয়েছিলো প্রধানমন্ত্রী! তাই এখনের আন্দোলনও সেম কথা তারা বলবে এবং বলছেও।




No comments:

Post a Comment

Thanks Bro