Tuesday, May 1, 2018

দেখে এলাম নিজামীর সম্পদের পাহাড় | I saw the hill of Nizami's property | Bangla Mail 21








দেখে এলাম নিজামীর সম্পদের পাহাড়!!!
--- আরিফ আল মামুন




এবার পাবনায় যাওয়ার আসল উদ্দেশ্যই ছিল সাঁথিয়ায় আমীরে জামায়াতের বাসভবন যাওয়া এবং কবর যিয়ারত করা।


শহীদ নিজামী




ঈশ্বরদীর আত্মিয়ের বাসা থেকে জুমু'আর নামাযের আড়াই ঘন্টা আগে রওয়ানা হয়েছি। পাবনা থেকে আমাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শাখার সাবেক দায়িত্বশিল ডাঃ আসাদুজ্জামান ভাইসহ দুইজন স্থানীয় দায়িত্বশিল। আমার সঙ্গে আসা ছাত্রদল নেতা লিটু আমাকে পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে খুব বেশি সতর্ক করছিল। পরে স্থানীয় ভাইদের মাধ্যমে পরিবেশ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে মনটা কিছুটা হালকা হলো।

সাঁথিয়ায় পৌছে সেখানকার কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমু'আ পড়ে নিলাম। প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা শহরের মসজিদটিতে এয়ার কন্ডিশনার দেখে মনে হলো উন্নয়নের ছোয়াটা এখানে ভালোই লেগেছে। পরে জেনেছি উন্নয়নের কান্ডারি আর কেউ নয় শহীদ মাওঃ মতিউর ররহমান নিজামী। নামায পড়ে একটা সিএনজি ভাড়া করলাম। ড্রাইভার কানে কানে বললো "কোন চিন্তা নেই একেবারে ওনার কবরের কাছে নামিয়ে দেব, নির্ভয়ে বসে যান।" 

সাঁথিয়া শহর থেকে মনপথপুর খুব বেশি দুরে নয়। গ্রামের মেঠো পথ ধরে মাত্র চার কিলোমিটার পরেই পৌছলাম মনপথপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান। কবরস্থান যাওয়ার আগেই একটা সুদর্শন মসজিদ দেখিয়ে দিয়ে ড্রাইভার বললেন এটাই ওনার বাড়ি! আমিতো শুনে অবাক!! আরে এটাতো মসজিদ, বাড়ি হবে কেন? আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন- "এটাই ওনার বাড়ি এটাই মসজিদ।" ঠিক বুঝতে না পেরে কথা না বারিয়ে সোজা কবরস্থানে ঢুকে পড়লাম। কবরস্থানের মুল ফটকের অদূরেই সাদা কাগজে লেমিনেটিং করা নেম প্লেটের কবরটি চোখে পরলো। দৌড়ে গিয়ে কবরের খুটি ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম। আমাকে দেখে অন্যরাও নিজেকে শামলাতে পারলোনা। একটু পরে স্বাভাবিক হয়ে প্রাণভরে আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম। 

এবার মসজিদের কাছে এসে স্থানীয় লোকজনের সাথে পরিচিত হলাম। আমীরে জামায়াতের ভাতিজা আব্দুর রহিম খানের সাথে কথা হলো। বললাম ওনার বাসা কোনটা? ওনিও মসজিদ দেখিয়ে দিলেন। বললেন-" মসজিদ সংলগ্ন টিন দিয়ে ঘেরা ভাঙা বাড়িটা তার ভাই- ভাতিজার। মূলত এই কাঁচা টিনের বাড়িটার মতই এখানে তার একটা বাড়ি ছিল।" আমি আসল রহস্য জানতে চাইলে তিনি বললেন- "মসজিদের জায়গাটাই ছিল আমীরে জামায়াতের পৈত্রিক ভিটা।তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করায় এই বাসায় থাকার কেউ ছিলনা। এজন্য তিনি দাতব্য প্রতিষ্ঠান চাষি কল্যাণ সমিতিকে তার পৈত্রিক ভিটা ওয়াকফ করে দেন। পরবর্তিতে চাষি কল্যাণ সমিতি সেখানে মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করে।" 

আমি জিজ্ঞেস করলাম তাহলে ওনার সম্পত্তি কি সব ঢাকায়? এখানে তার কিছুই নেই? তিনি বললেন- "বাংলাদেশের কোথাও তার এক ইঞ্চি জমি নেই। আর সম্পত্তি বলতে তিনি তার চার ছেলেকে রেখে গেছেন। ছেলেরাই তার সম্পদ।" আমার তখন মনে পরে গেল প্রিয় নবীর শেষ সময়ের কথা। রাসূল (সাঃ) তার ইন্তেকালের সময় সামান্য পরিমান সম্পদও রেখে যাননি। রাসূলের রেখে যাওয়া আন্দোলনের সার্থক অনুসারী প্রিয় নেতা শহীদ মাওঃ মতিউর রহমান নিজামীও সামান্য পরিমান সম্পদ রেখে যাওয়া পছন্দ করেননি। আরো অনেক কাহিনী শুনলাম, প্রিয় নেতার অসংখ্য স্মৃতি আর প্রেরণার কাহিনী শুনে বুকটা গর্বে ভরে গেল।

বিশেষ কারনে তারাহুরো করে আবার ফিরতে হলো। কিন্তুু সিএনজি ড্রাইভার নির্দিষ্ট ভাড়া কোনভাবেই নিচ্ছেননা। তিনি বললেন শহীদ নিজামীর সম্মানে আমি আপনাদের কাছ থেকে কিছু টাকা কম নিবো। প্লিজ আপনারা না বলবেননা। কি আর করার! তাই করতে হলো। চলে এলাম সাঁথিয়া ছেড়ে, কিন্তুু এক মুহুর্তের জন্যও প্রিয় নেতাকে ভুলতে পারছিনা। বারবার শুধু মন থেকে দোয়া আসছে "হে আরশের মালিক, প্রিয় নেতাকে তুমি জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করো"। আমিন।।



লেখকঃ নীলফামারী সদর উপজেলা
জামায়াতের প্রচার বিভাগের
সেক্রেটারি






No comments:

Post a Comment

Thanks Bro